পশ্চিম কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী ও ফুটবল ফেস্টিভ্যাল সম্পন্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্মৃতির মেলবন্ধন, বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাস আর ফুটবলের অনাবিল আনন্দে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে পশ্চিম কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী ও ফুটবল ফেস্টিভ্যাল সিজন–০১।
৫ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে মাওয়া স্পোর্টস জোনে ফুটবল ফেস্টিভ্যাল সিজন–০১ অনুষ্ঠিত হয়।
পশ্চিম কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী পর্ষদের আয়োজনে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়। দীর্ঘদিন পর সহপাঠী, বন্ধু ও শিক্ষকদের একসঙ্গে পেয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
ফুটবল ফেস্টিভ্যালে বিদ্যালয়ের ১৬টি ব্যাচ অংশগ্রহণ করে। টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতিটি ম্যাচে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে মুখোমুখি হয় ২০২০ ব্যাচ ও ২০২৫ ব্যাচ।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে এবং প্রাক্তন ছাত্র জাবেরের সঞ্চালনায় আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজী মোহাম্মদ আলম ববি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেকান্দর আলম, শাখাওয়াত হোসেন খসরু, নিহার রঞ্জন দাস, মাসুদ কাদেরী, আলী হোসেন বাবু, স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মোরশেদ আলম, প্রাক্তন ছাত্র আসাদ রহমান, খোরশেদুল আলম, এরশাদ হোসেন ও আয়োজন কমিটির সোরাজ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, এস এম নাঈম উদ্দিন, সদস্য শাহ আলম বাবলু ও সাংবাদিক এম আর তৌহিদ। এছাড়াও বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আয়োজক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই ২০২০ ও ২০২৫ ব্যাচের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মাঠে খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে জমে ওঠে ফাইনাল ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ ব্যাচকে ২–১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে প্রথম সিজনের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ২০২০ ব্যাচ। আর ২০২৫ ব্যাচ হয় রানার্সআপ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী মোহাম্মদ আলম ববি বলেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এমন আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আগামীতে এ ধরনের আয়োজন আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হলে তিনি সার্বিক সহযোগিতা করবেন। একই সঙ্গে কধুরখীল এলাকায় একটি ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশ ঘটানো সম্ভব। তাই তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
ফুটবল ফেস্টিভ্যালের পাশাপাশি পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে চলে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ, পুরোনো দিনের গল্প ও আনন্দ-উচ্ছ্বাস। সহপাঠী ও বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ায় অনেকেই ফিরে যান বিদ্যালয় জীবনের সোনালি দিনগুলোর স্মৃতিতে।
আয়োজকরা জানান, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করা, পুরোনো স্মৃতিকে নতুন করে জাগিয়ে তোলা এবং বিদ্যালয়ের প্রতি সাবেক শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।

প্রথম সিজনের সফল আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের পথ তৈরি করেছে বলে জানান আয়োজকরা। আগামীতে আরও বৃহৎ পরিসরে পুনর্মিলনী ও ফুটবল ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তারা।

প্রথম সিজনের চ্যাম্পিয়ন ২০২০ ব্যাচকে অভিনন্দন এবং অংশগ্রহণকারী ১৬টি ব্যাচসহ আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, খেলোয়াড়, আয়োজক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আয়োজকরা।
