
বোয়ালখালী সংবাদ: বিষধর সাপের দংশনে গুরুতর অসুস্থ এক রোগী আবদুল হালিমকে দ্রুত এন্টিভেনম প্রয়োগ করে প্রাথমিকভাবে জীবন রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে রোগীটি আল্লাহর রহমতে সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত ৯টার দিকে বিষধর সাপের কামড়ের শিকার হন ওই রোগী। রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুরুতর অবস্থায় তাকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। এ সময় রোগীর ptosis, broken neck sign-সহ বিভিন্ন neurological sign and symptom দেখা যায়।
জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডা. তনুজা দে দ্রুত পরিস্থিতি বিবেচনা করে মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. সৌরভ সরকার, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তোফায়েল আহমদ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মামুনুল হক মামুনের সঙ্গে পরামর্শ করেন। পরে রোগীর জীবন রক্ষার্থে দ্রুত এন্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ সময় অন্তর্বিভাগে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স হোসনেয়ারা বেগম, জরুরি বিভাগের স্যাকমো সঞ্জয় সেন এবং কর্মচারী মো. জিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রোগীকে দ্রুত এন্টিভেনম দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সাপোর্ট প্রদান করা হয়।
এন্টিভেনম প্রয়োগের পর রোগীর অবস্থার উন্নতি হলে পরবর্তী উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সাপোর্টসহ তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সময়মতো রোগী হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিষধর সাপের দংশনের চিকিৎসায় বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত এন্টিভেনমের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই সাপের দংশনের ক্ষেত্রে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সব শেষ আপডেট:
রোগীকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরও বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোগীটি আল্লাহর রহমতে সুস্থ আছেন।
সময়মতো এন্টিভেনম প্রয়োগ করতে পারায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পক্ষ থেকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের টিমকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ইতিবাচক মনোভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
Leave a Reply