
“বাংলাদেশ প্রথম”-লুটপাট আর আধিপত্যবাদের বয়ান পেরিয়ে জাতীয় ঐক্যের ডাক
বাংলাদেশের রাজনীতি ও ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একপেশে বয়ান চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের যুব সমাজকে এই চাপিয়ে দেওয়া বয়ানের বাইরে এসে প্রকৃত ইতিহাস পড়তে হবে।
১৯৭১ সালে ভারত বাংলাদেশকে সহায়তা করেছে, এটা সত্য। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের দলিল স্বাক্ষরের সময় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীকে রাখা হয়নি, বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধিকেও রাখা হয়নি। ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য আত্মসমর্পণ করেছে ভারতীয় জেনারেল অরোরার কাছে।
শুধু তাই নয়, যুদ্ধের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং পূর্ব পাকিস্তানে থাকা পাকিস্তানি নাগরিকদের ফেলে যাওয়া কল-কারখানা, ব্যাংক, অস্ত্র, গাড়ি, এমনকি সাধারণ মানুষের ঘরের সম্পদ পর্যন্ত ভারতীয় সেনাদের বিরুদ্ধে লুটপাট করে নিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সেই সময় ঢাকা থেকে কোটি কোটি টাকার মালামাল ট্রাকে করে ভারতে পাচার করা হয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন।
আরেকটি ভয়াবহ অভিযোগ হলো ১৪ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড নিয়ে। এই হত্যাকাণ্ড পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদরের নামে চালিয়ে দেওয়া হলেও, এর পেছনে অন্য উদ্দেশ্য ছিল বলেও অনেক গবেষক প্রশ্ন তুলেছেন। জাতিকে মেধাশূন্য করার এই নীলনকশা কাদের স্বার্থে করা হয়েছিল, তা আজও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।
স্বাধীনতার পর যারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল, যারা রণাঙ্গনে সরাসরি যুদ্ধ করেছিল, তাদেরকেই বেছে বেছে হত্যা করা হয়েছে। আর যারা কলকাতায় গিয়ে আয়েশ করেছে, যুদ্ধ করেনি, তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে রাষ্ট্রের সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড সেই একই ধারাবাহিকতার অংশ। ২০০৯ সালে ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
আমাদের লড়াই ভারতের সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে নয়, আমাদের লড়াই দিল্লির আধিপত্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে। ইতিহাসের এই অপ্রিয় সত্যগুলো না বললে জাতীয় ঐক্য কখনোই হবে না।
ভাঙচুর নয়, প্রতিহিংসা নয়। সত্য বলতে হবে।
চলো গড়ি। চলো জাতীয় ঐক্য গড়ি। চলো শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ি।
-সৈয়দ সাইফুদ্দিন
সাবেক সভাপতি, জাতীয় ছাত্রদল, বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা
সাবেক সভাপতি, জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা।
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, কেন্দ্রীয় সংসদ।

Leave a Reply