1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. boalkhalinews@gmail.com : boalkhalisongbad :
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সিডিএফএ মেয়র অনূর্ধ্ব-১৩ একাডেমি কাপের চ্যাম্পিয়ন রামপুর ফুটবল একাডেমি বোয়ালখালীতে ৯ হাজার ১৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি তসলিমকে গ্রেপ্তার বোয়ালখালীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ৩ আসামি গ্রেপ্তার বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুরা বীণাপানি ও দেবেন পাঠাগার-মৈত্রী সংঘ পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে নুরুন্নবী চৌধুরী বোয়ালখালীতে লায়ন রুবেল দাশের উদ্যোগে ৭০০ অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীকে বস্ত্র বিতরণ বোয়ালখালীতে ‘লাইসিয়াম’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ: ইউএনও মেহেদী হাসান ফারুকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, উপহার দিলেন ২৭টি বই বোয়ালখালীর ঐতিহ্যবাহী বীণাপাণি মন্দির পরিদর্শনে মেধস মুনির আশ্রমের মহারাজ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বোয়ালখালীতে ১৮৫টি পূজামণ্ডপে ১১১ মেট্রিক টন জি.আর. চাল বিতরণ বোয়ালখালীতে ১১ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার বোয়ালখালীতে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ কক্সবাজারের এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার

আধ্যাত্মিক সুফি সাধক, গবেষক, গীতিকার ও সমাজসেবক আবুল কালাম (ভোলা): কর্মময় জীবন আজও অনুপ্রেরণা

সৈয়দ মোঃ নজরুল ইসলাম
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৩২৫ Time View

আধ্যাত্মিক সুফি সাধক, গবেষক, গীতিকার ও সমাজসেবক আবুল কালাম (ভোলা): কর্মময় জীবন আজও অনুপ্রেরণা

লেখক -সৈয়দ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ঃ
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার গোমদণ্ডী বহদ্দার পাড়ার কৃতী সন্তান, আধ্যাত্মিক সুফি সাধক, আধ্যাত্মিক গবেষক, গীতিকার, অর্থনীতিবিদ, সমাজসেবক ও সফল ব্যবসায়ী আবুল কালাম (ভোলা) তাঁর বহুমাত্রিক কর্মজীবন, মানবসেবা এবং আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে আজও মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

১৯৪৩ সালের ১৫ জানুয়ারি গোমদণ্ডী বহদ্দার পাড়ার এক সম্ভ্রান্ত ও ধর্মপ্রাণ পরিবারে তাঁর জন্ম। পারিবারিকভাবে সুফিবাদ ও আধ্যাত্মিক চর্চার পরিবেশে বেড়ে ওঠা আবুল কালাম শৈশব থেকেই নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং মানবসেবার শিক্ষা লাভ করেন। আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি ১৯৬০ সালে মেট্রিকুলেশন পাস করেন এবং কর্মজীবন শুরু করেন চট্টগ্রাম পোর্ট হজ অফিসে অস্থায়ী করণিক হিসেবে। পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যাংক, শিপিং কোম্পানি ও শিল্প-প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। চাকরির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বি.কম ডিগ্রি অর্জন করেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন এবং সততা, দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। তবে ব্যবসায়িক সফলতা তাঁকে কখনো আত্মকেন্দ্রিক করেনি। বরং সমাজকল্যাণ, শিক্ষা বিস্তার এবং মানবসেবায় তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।

তিনি বাংলাদেশ হার্ডওয়ার অ্যান্ড মেশিনারী মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রাক্তন সদস্য, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন উপদেষ্টা কমিটির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের কার্যকরী কমিটির সদস্য, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য ছিলেন।
শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে তাঁর অবদানও ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি গোমদণ্ডী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পাশাপাশি খায়ের মঞ্জিল দরবার শরীফ ওয়াক্ফ এস্টেট পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ ১৮ বছর ও ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ ইংরোজি তারিখ দেহ ত্যাগ করার আগে সভাপতি দায়িত্ব পালন করে দরবারের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ এবং আধ্যাত্মিক সাহিত্য প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর নেতৃত্বে দরবার শরীফের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয় এবং ভক্তদের কাছে তিনি একজন সফল সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
অর্থনীতি, শিল্পায়ন, জাতীয় রাজস্ব, কর্মসংস্থান, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে তাঁর অসংখ্য গবেষণামূলক প্রবন্ধ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লেখনীতে উঠে এসেছে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক উন্নয়ন ভাবনা, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, সেতু নির্মাণ, উপকূলীয় উন্নয়নসহ বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব প্রবন্ধের সংকলন হিসেবে প্রকাশিত হয় “বিকল্প ভাবনা” গ্রন্থ।

আধ্যাত্মিক সাধনা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন ব্যতিক্রমী। দীর্ঘ গবেষণা, ধ্যান ও আত্মশুদ্ধির সাধনার মাধ্যমে তিনি রচনা করেন “আত্মদর্শন” নামের তাত্ত্বিক গ্রন্থ, যা ইসলামি দর্শন, তাসাউফ, আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক জীবনবোধের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা হিসেবে সমাদৃত। এছাড়া তাঁর রচিত ভাববাদী গানের সংকলন “সুরতি” আধ্যাত্মিক সংগীতপ্রেমীদের কাছে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

তিনি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিবন্ধিত গীতিকার ছিলেন। তাঁর রচিত বহু গান দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের কণ্ঠে পরিবেশিত হয়েছে। সাহিত্য, গবেষণা, সমাজসেবা এবং আধ্যাত্মিক অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সম্মাননা ও ক্রেস্ট লাভ করেন।

১৯৭৪ সালের ১৪ এপ্রিল হোসনে আরা লুসার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আবুল কালাম (ভোলা)। তাঁদের পরিবারে তিন পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ পুত্র মোস্তফা কামাল মানিক বর্তমানে খায়ের মঞ্জিল দরবার শরীফের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

আবুল কালাম (ভোলা) সাহেব ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ ইংরোজি তারিখ দেহ ত্যাগ পর তাঁর আদর্শ ও মানবসেবার ধারাকে সামনে রেখে মোস্তফা কামাল মানিকের নেতৃত্বে খায়ের মঞ্জিল দরবার শরীফের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েছে।

বর্তমানে দরবার শরীফকে আধুনিক ও নান্দনিক রূপে গড়ে তুলতে চট্টগ্রামের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন মাজার কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে ধর্মপ্রাণ মানুষ ও দর্শনার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়াও তাঁদের পরিবার নিয়মিতভাবে এলাকার গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসা সহযোগিতা, শিক্ষা সহায়তা, খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁরা সমাজসেবার ধারা অব্যাহত রেখেছেন। স্থানীয় জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে পরিবারটি মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।

কঠোর পরিশ্রম, সততা, আত্মশুদ্ধি, মানবসেবা এবং আধ্যাত্মিক চর্চার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা আবুল কালাম (ভোলা) সাহেবের জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

লেখক -সৈয়দ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম

সাংগঠনিক সম্পাদক, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাব।

চট্টগ্রাম।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
Themes By BDITWork.Com