
বোয়ালখালীতে শাকপুরা তপোবন বিহারে দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঃ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার মধ্যম শাকপুরার ঐতিহ্যবাহী শাকপুরা সার্বজনীন তপোবন বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব ও বৌদ্ধ সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিহার প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গ্রামবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় এবং শাকপুরা লালচাঁদ বাড়ির বাসিন্দা বাবু রাহুল বড়ুয়ার পরিবারবর্গের পৃষ্ঠপোষকতায় কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও সাড়ম্বরে এ পুণ্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ত্রৈমাসিক বর্ষাবাসের সমাপনী উপলক্ষে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্যাপন, কঠিন চীবর দান, বৌদ্ধ জ্ঞাতি সম্মেলন, সংঘদান ও পুণ্যদানের আয়োজন অনুষ্ঠানে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
দিনব্যাপী ধর্মীয় আয়োজন
অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, ভোর ৪টা ১ মিনিটে প্রভাতফেরি, ভোর ৫টা ১ মিনিটে পরিত্রাণ পাঠ, সকাল ৬টা ১ মিনিটে বুদ্ধপূজা এবং সকাল ৭টা ১ মিনিটে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি রাখা হয়।
সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে পরম পূজ্য সংঘরাজ ও মহাথেরদের স্মরণে অষ্টপরিষ্কারসহ সংঘদান ও পুণ্যদানের আয়োজন করা হয়। এরপর দ্বিতীয় পর্বে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব ও বৌদ্ধ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে অতিথি আপ্যায়নের কর্মসূচিও ছিল।
ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শাসনরত্ন তদন্ত ধর্মসেন মহাস্থবির, সদ্ধর্মজ্যোতিকাব্বজ শিক্ষাবিদ বসুমিত্র মহাথের, অধ্যাপক জ্ঞানসারথী জ্ঞানরত্ন মহাস্থবির, তদন্ত শরণসেন মহাস্থবির, অধ্যাপক ড. জ্ঞানরত্ন মহাস্থবির, তদন্ত বুদ্ধপাল মহাস্থবির ও তদন্ত রতনানন্দ স্থবিরসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠানের মঙ্গলাচরণে তদন্ত শীলপ্রিয় স্থবিরের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি শাকপুরা প্রজ্ঞাবংশ বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র এবং শাকপুরা সার্বজনীন তপোবন বিহারের সংশ্লিষ্ট ভিক্ষুসংঘও অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে দায়িত্ব পালন করেন।
বিশেষ অতিথিদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ মনিরুল ইসলাম, জেলা যুবদলের নেতা মো. সিরাজুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মো. ইলিয়াছসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সংঘদান ও পুণ্যদানের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সম্প্রীতি, মৈত্রী ও মানবকল্যাণের বার্তা তুলে ধরা হয়।
আয়োজকেরা জানান, এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখে।
সকল প্রাণীর সুখ, শান্তি ও মঙ্গল হোক।

Leave a Reply